
সাভারের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী শামীম রেজাকে গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্তকে ঘিরে উঠে এসেছে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ। তদন্তকারী কর্মকর্তা, সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নেয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলার গোপনীয়তা ভঙ্গ, আসামির স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক ও অস্বাভাবিক যোগাযোগ, মূল্যবান উপঢৌকন গ্রহণ, নগদ অর্থ আদায় এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পক্ষে একাধিক কলরেকর্ড, অডিও-ভিডিও বার্তা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র থাকার দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, শামীম রেজাকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নগদ ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা জব্দ তালিকায় উল্লেখ না করে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পরে রিমান্ডে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন না করার শর্তে এসআই নেয়ামত উল্লাহ ও সাভার মডেল থানার এএসআই লিমনকে দুটি আইফোন-১৭ প্রো ম্যাক্স (আনুমানিক বাজারমূল্য সাড়ে চার লাখ টাকা) দিতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় আরও ৩ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত একাধিক কলরেকর্ড ও অডিও বার্তায় দেখা যায়, এসআই নেয়ামত উল্লাহ মামলার তদন্ত-সংক্রান্ত বিভিন্ন গোপন তথ্য, পুলিশের অভ্যন্তরীণ নথি এবং জব্দকৃত আলামতের তথ্য আসামির স্ত্রী সুমাইয়া সাথীর সঙ্গে ভাগাভাগি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একটি ফোনালাপে তাকে বলতে শোনা যায়- "মাহাবুবরে ধরতে পারলে থানায় একটার পর একটা জিডি করবেন। দুনিয়ার কেউ যেন না জানে, আমি তারে ধরে এনে দিতেছি... আপনাদের যেই থ্রেট দিক, প্রত্যেকটা জিডি করবেন।"
আরেকটি কলরেকর্ডে তিনি বলেন- "আমি তো স্যারদের সঙ্গে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেছি, তাকে যেন অন্য কোনো মামলায় না দেওয়া হয়। শামীমের সঙ্গে এসপি স্যার, আলফা থ্রি ও আলফা সেভেন স্যারদের কথা হইছে-তোমারে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বের করব।"
অভিযোগ রয়েছে, তিনি আসামির স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে জেলখানায় গিয়ে শামীমের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থাও করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
অনুসন্ধানে পাওয়া একাধিক অডিও ও কলরেকর্ডে দেখা যায়, তদন্তের প্রয়োজনের বাইরে এসআই নেয়ামত উল্লাহ বারবার আসামির স্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগের চেষ্টা করেন। গভীর রাতে ফোন ও ভিডিও কলে একান্তে দেখা করার জন্যও তিনি বারবার অনুরোধ জানান।
একটি ফোনালাপে তাকে বলতে শোনা যায়- "আপনারে তো কালকেও ফোন দিলাম, আমার ফোন দেখলেন না। এত কিসের ডিপ্রেশন? একটু কষ্ট করে আইসেন... ফোনের লাইগা না, অন্য ব্যাপারেও সামনাসামনি কিছু কথা কমু।"
অন্য একটি রেকর্ডে তিনি বলেন- "আমি আপনারে এতবার ফোন দিতাম না। আমি কিছু কথা সামনাসামনি বলতে চাই।"
কুরআন ছুঁয়ে ভিডিও, কান্নাকাটির অভিযোগ
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ ও অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করতে এসআই নেয়ামত উল্লাহ মসজিদের ভেতরে বসে পবিত্র কুরআন হাতে ভিডিও ধারণ করে তা শামীমের স্ত্রীর কাছে পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভিডিওতে তিনি বলেন- "আল্লাহর এই কুরআনের কসম, আমি কিছুই জানি না। এক টাকাও যদি আমার পেটে যায়, আল্লাহর এই কুরআন যেন আমারে গজব দেয়।"
এছাড়া গভীর রাতে কুরআন সামনে রেখে অজু করে ভিডিও কলে আসার জন্য ওই নারীকে চাপ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।